নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আসন্ন চতুর্থ ধাপে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮নং কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে এ্যাডভোকেট সামসুল হক সামসুকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উচ্চশিক্ষিত এ সৈনিক মূলধারার আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে অধিক সমাদৃত। গ্রামের সাধারণ একটি আওয়ামী পরিবার থেকে উঠে আসা এ নেতার তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা। শৈশব থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে দলীয় আদর্শকে সমুন্নত রেখে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দলীয় মনোনায়ণ ফেলে ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের বিপুল ভোটে কুশাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে জননন্দিত এ আওয়ামীলীগ নেতা।
এ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম সামসু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭৫ সালে ওই গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা (পিতা) সিরাজ উদ্দিন ও (মাতা) আমেনা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৯১ সালে স্থানীয় রূপাচরা শফিউল্যা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ১৯৯৩ সালে চন্দ্রগঞ্জ কপিল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৫ সালে ডিগ্রী পাশ করেন তিনি। এরপর আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে আইনজীবি হিসেবে যোগদান করেন।
আওয়ামী আদর্শে বিকশিত এ নেতার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক সেবাদানের ইতিহাস। ছাত্র জীবন থেকেই সামসুল হক সামসু আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। গুরুত্বপূর্ণ পদপদবীর লোভ না করে সকলের অগোচরেই দল ও নেতাকর্মীদের জন্য স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে গেছেন।
ছাত্রজীবন থেকে (১৯৯৩ সাল)এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও গোলাম আজম বিরোধীসহ যুদ্ধপরাধী আন্দোলনে একজন জেলা সংগঠক হিসাবে যথাযথ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল’র গনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুবাধে নিজ ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করেন তিনি।
২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হন কাজী ইকবাল। সে সময় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ করতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মনোনীত (ধানের শীর্ষ) প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর অফিস ভাঙার মামলায় পিতা সিরাজ উদ্দিন ও ভাই নজরুলসহ সামসুল হক সামসুকে আসামী করা হয়। বিএনপি সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে স্ব পরিবারে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয় তাকে। বিএনপির অত্যাচার সহ্য করতে না পারায় ২০০৪ সালে স্ট্রোক জনিত কারণে বাবা সিরাজ উদ্দিনকে হারান তিনি। আওয়ামীলীগের চরম দুর্দিনে এ ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের মানসিক ও রাজনৈতিক ভাবে উজ্জীবিত রেখে দলকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক ত্যাগ করেছে তিনি। বহু হামলা, মামলা, অত্যাচার, নিপিড়ন সয়েও তিনি দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন।

উন্নয়ণমূলক কাজ:
সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী অবহেলিত একটি এলাকা। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্ধ সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ একেএম শাহজাহান কামাল এমপির মাধ্যমে কুশাখালী ইউনিয়নে এনেছেন সামসুল হক সামসু। সেই উন্নয়ন বরাদ্ধ বাস্তবায়নে কুশাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজে সার্বিক সহযোগীতা করেন তিনি। এছাড়াও স্থানীয় সরকার, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন নির্বাচনে জেলা নেতাদের সাথে সমন্বয় পূর্বক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিবেদিতপ্রাণ এ আওয়ামীলীগের নেতা। এক সময়ের সন্ত্রাস কবলিত এলাকা কুশাখালী ইউনিয়ন। এখানকার সন্ত্রাস বিরোধী আইনশৃঙ্খলা কর্মকান্ডে সর্বাত্মক সহযোগীতা রয়েছে এ্যাডভোকেট সামসুল হক সামসুর। বর্তমানে দাসের হাট পুলিশ ফাঁড়ির ভবন নির্মাণে স্থান নির্ধারনসহ সার্বিক সহযোগিতা করছেন তিনি।
নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী এ্যাডভোকেট সামসুল হক সামসু বর্তমানে ১৪ দলীয় ঐক্যজোট’র চন্দ্রগঞ্জ থানা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, কুশাখালী ইউনিয়ন আ’লীগের একজন সম্মানিত সদস্য, চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সামাজিক কাজ:
এছাড়াও সামসুল হক সামসু কুশাখালী ইউনিয়নের সামাজিক বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। কুশাখালী শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্ঠা তিনি। স্থানীয় কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইবার সভাপতি, স্থানীয় রূপাচরা সফিউল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন বারের অভিভাবক সদস্য, পশ্চিম কল্যানপুর আলিমুল কুরআন নুরানী মাদ্রাসার সভাপতি ও হাজী কাজমউদ্দিন জামে মসজিদের সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি সম্মানের সাথে। এছাড়াও দাসের হাট বাজার কমিটি উপদেষ্ঠা ও দাসেরহাট ঈদগাহ মাঠের সেক্রেটারী হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন দলীয় মনোনায়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের এ নেতা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮নং কুশাখালী ইউনিয়নে অসংখ্য নিরিহ জনসাধারণ রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ একেএম শাহজাহান কামাল এমপির সার্বিক সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বরাদ্ধ থেকে এলাকায় অনেকগুলো উন্নয়ন মূলক কাজ হয়েছে। এর আগেও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কাজী ইকবালের মাধ্যমে এ ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ভবন, রাস্তাঘাট, ব্রীজকালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজের সাথে আমার সার্বিক সহযোগীতা রয়েছে। তবে এখনো এ ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ বাকী রয়েছে।
তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনায়ন দেন। তাহলে এ ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে যথাযথ ভূমিকা রাখবো। বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পৌছে গেছে। নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয় হলে প্রধানমন্ত্রীর সেই লক্ষ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কুশাখালি ইউনিয়নকেও একটি মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে প্রাণ দিয়ে কাজ করবো। মাদক, সন্ত্রাণ নিমূল করে ইউনিয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিজের জীবন বাজী রেখে কাজ করে যাবো। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর (বুধবার) চতুর্থ ধাপে জেলার কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ সহ ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশণ। এতে মনোনায়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ আগামী ২৫ নভেম্বর, বাছাই ২৯ নভেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারে তারিখ ৬ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্ধ ৭ ডিসেম্বর এবং আগামী ২৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ণ পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.