প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনির হোসেন নামে এক শিক্ষকের পরিবারের উপর হামলা করে শিশুসহ তিন নারীকে পিটিয়ে আহত এবং স্বর্ণা-অলংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য রবিউল, রকি,তুষার, জিদান রনিসহ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। ২৫ জুন (শনিবার) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৪ নং মান্দারী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের দানিছ মিঝি বাড়িতে এ ঘটনা। শিক্ষক মনির সদর উপজেলার নরসিংহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এসময় তারা আরজু বেগম, জেসমিন আক্তার, বিবি রহিমাসহ সাড়ে তিন বছরের শিশু রাফিকে পিটিয়ে আহত করে এবং বিবি রহিমা গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং সদ্য প্রবাস থেকে আসা জেসমিন আক্তারের গলায় থাকা স্বর্ণের নেকলেস ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে আরজু বেগমসহ আহত সকলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার মধ্যে আরজু বেগমের অবস্থা আশংকা জনক। আরজু একই বাড়ির ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মোঃ সোলাইমানের এবং জেসমিন আক্তার মোঃ নুর উদ্দিনের স্ত্রী। শিশু রাফি নুর উদ্দিনের ছেলে। বিবি রহিমা, ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে ও নুর উদ্দিনের বোন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আহত নারী জেসমিন আক্তার বলেন, সকালবেলা আমার ছেলে রাফি ঘরের সমনে খেলা করছিলো এ সময় রকি তার চাচা,চাচী সহ রিকশা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশের সময় আমার ছেলের জন্য একটু সমস্যা হয় এতে রকি ক্ষিপ্ত হয়ে গাল মন্দ করতে থাকে এবং রকির চাচা দেলোয়ার আমার ছেলেকে উঠিয়ে ছুড়ে মারে এর মারধর করে। এসময় আমি বাধা আসলে রবিউল, তুষার, জিদান,রনি, এবং রকির মা মাকছুদা, তুষারের মা তুহিন ও দেলোয়ারের স্ত্রী রিমু আমাকে এবং পরে আরজু ও রহিমাকে মারধর করে আমার গলায় থাকা স্বর্ণের নেকলেস (আড়াই ভরি ওজনের) তুষার ছিনিয়ে নেয় এবং রহিমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন (১ভরি ওজনের) রিমু ছিনিয়ে নেয়।
অভিযুক্ত দেলোয়ার একই বাড়ির মৃত- আবুল হাসেমের, রবিউল হাসান ও রাকিবুল হাসান রকি, রনি, ফয়েজ আহম্মেদের এবং জিদান, মোঃ হোসেনের ছেলে।
স্কুল শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, আমার ভাই সহ পরিবারের পুরুষ কেউ বাড়িতে ছিলো না। তারা আমার পরিবারের নারীদের উপর হামলা করেছে চিনতাই,লুটপাট করেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।
ভুক্তভোগী পরিবারের মেজো ছেলে সোলাইমান জানান, তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে মারতে থাকে মারপিটের মাঝে আরজু যখন পড়ে যায় তখন তারা আরজুর পেটে আঘাত করে এবং তুষার আরজুর বুকের উপর দাঁড়িয়ে পেটে আঘাত করে। আরজুর পেটে ২ বার সিজার করা তাই এই আঘাতে সে অচেতন হয়ে যায় এখনো তার অবস্থা আশংকা জনক।
রকি,জিদান, তুষার এরা এলাকায় চুরি চিনতাই সহ নানান অপকর্মের সাথে যুক্ত। তারা সাবেক সফি মেম্বারের ছেলে কামাল হোসেন ওরফে আরমি কামালের নেতৃত্বে স্থানীয় আরো কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে এলাকায় গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাং। কিছুদিন আগেও চুরির দায়ে স্থানীয় মেম্বার, জিদান ও রকির বিচার করেছে। তুষারকে মারপিট করায় মান্দারী থেকে পুলিশ আটক করেছে এই রকম বহু ঘটনা আছে তাদের। আমার ছেলে ফাহিম মান্দারী স্কুলে পড়ে এখন তারা হুমকি দিচ্ছে তার হাত পা ভেঙ্গে দিবে এবং আমাদের পরিবারের সকলকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.