প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের হতদরিদ্র নুরুল আমিন। গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। দুরারোগ্য এই ব্যাধিটি তার একটি পা কেড়ে নিলেও অপর পা নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছেন। চিকিৎসার অভাবে অন্য পা’টিও হারাতে বসেছেন তিনি। এনিয়ে গেলো জানুয়ারি মাসে গণমাধ্যম মানবিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিকাড়ে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ এর এমডি ড. হাকিম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার পত্নী লেখক ও সমাজসেবক কামরুন নাহার পলিনসহ কয়েকটি সংগঠনের।
শনিবার (৯ জুলাই) এ শিক্ষাবিদের দেওয়া কয়েকমাসের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নুরুলের বাড়িতে হাজির হয় স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা জানিয়েছেন, তার চিকিৎসার কিছু অংশ সহায়তা করবে সমাজসেবক কামরুন্নাহার পলিন। উপহারের তালিকায় ২ বস্তা চাউল, পেঁয়াজ, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ছিল।
এদিকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, দ্রুত অপর পায়ের চিকিৎসা করানো না হলে সেটিও কেটে ফেলতে হবে। এতে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকার অধিক খরচ হতে পারে। মানবেতর জীবনযাপন করা তার পরিবারের দাবি, সরকার ও বিত্তশালীরা সাহায্য করলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন নুরুল আমিন।
ঈদ-উল আযহার ঠিক আগের দিন খাদ্যসামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৫৫ বছর বয়সী নুরুল আমিন। তিনি বলেন, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। ২ বছর আগে স্ত্রী মারা যায়। এরই মাঝে ইটভাটায় কাজ করাকালীন সময়ে গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হন। পায়ে পঁচন ধরলে স্থানীয়দের সহায়তায় ও পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু অপারেশন করে বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অতি দ্রুত যদি অপর পা টির চিকিৎসা করানো না হয় সেটিও কেটে ফেলতে হবে।
এসময় হামদর্দ এমডি পত্নী কামরুন্নাহার পলিনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নুরুল আমিন বলেন, আমি বাঁচতে চাই। বর্তমানে অপর পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চলাচলও করতে পারছি না।
উল্লেখ্য, কামরুন নাহার পলিন এর আগেও লক্ষ্মীপুরের অনেক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.