স্বামী পরিত্যক্তা রিমা আক্তার কাজ করতেন ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। করোনাভাইরাসের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত মাসে চলে আসেন এলাকায়। মা ও আট বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোনো রকম দিন কাটছিলো শারীরিক প্রতিবন্ধী এ নারীর। কিন্তু ঘরে থাকা খাবার বৃহস্পতিবার একেবারেই ফুরিয়ে যায় তার। নিরুপায় হয়ে মুঠোফোনে থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) সমস্যার কথাটি খুলে বলেন।

সমস্যা জানতে পেরে কিছু সময় পর ওসি তার বাড়িতে চাল-ডাল-মোরগসহ মৌসুমী ফল নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে এলাকায় আসার পর জমানো কিছু টাকায় কোনো রকম দিন কাটছিলো রিমার। সেই টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন চাল-ডাল কেনার মতো কোনো অর্থ তার কাছে নেই। এ পর্যন্ত পাননি কোনো ত্রাণ সহায়তা। ইউএনও-ওসিকে ফোন করলে ত্রাণ পাওয়া যায় বিভিন্নজনদের কাছ থেকে এমন খবর শুনে থানার ওসিকে সাহস করে ফোন দেন। ওসি’র কাছে তার সমস্যার কথা তুলে ধরে সাহায্য চান। এর কিছু সময় পরই ওসি চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সবজি, মোরগ এবং মৌসুমী ফল তরমুজ, কাঠাঁল ও আনারস নিয়ে হাজির হন তার বাড়িতে।

রিমা আক্তার জানান, আজ তার ঘরে কোনো খাবার ছিলো না। ভয় থাকলেও নিরুপায় হয়েই তিনি ওসিকে ফোন দিয়েছেন। কিন্তু ফোন পেয়ে ওসি চাল-ডাল ও ফলসহ এতসব খাবার তার বাড়ি নিয়ে যাবেন; এটা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, করোনা সঙ্কটে কর্মহীন এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা আসলেই খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর কষ্টের কথা শুনে খুব মন খারাপ হয়েছিলো। তাই সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.