লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের করনীয় শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা গত আগষ্ঠ মঙ্গলবার রাতে জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের লক্ষ্মীপুর পত্রিকার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (জরুরী বিভাগ) ডা: রেজাউল করিম মাসুম বলেন যার পরিবারে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে তিনি বুঝেন করোনা কি।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দৃরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করেনা। করোনা উপসর্গ থাকার পরও অনেকে নমুনা পরীক্ষা দেয়না। গ্রামের অনেক করোনা রোগী দোকানে গিয়ে চা খাচ্ছে এতে করে অন্য লোক সংক্রমিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছে। করোনার সাথে যুদ্ধ করতে করতে চিকিসকেরা এখন ক্লান্ত। তবুও আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনো কাজ করে যাচ্ছি। মানুষ সচেতন না হলে সংক্রমণ কমবে না। জনবল সংকট নিরসন হওয়া দরকার।
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের কার্য্য নিবার্হী কমিটির সদস্য মো: রবিউল ইসলাম খান বলেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণমাধ্যম সদস্যদের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার।
এ ছাড়া বর্তমানে সরকার গ্রামের মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য ক্যাম্পেইন করে টিকা প্রদান করছে।
একই ভাবে গ্রামে গ্রামে ভ্রাম্যমান করোনা নমনুা সংগ্রহ করা অভিযান করা যায় কিনা বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। মানুষকে এখনো মাস্ক পরা ও সামাজিক দৃরত্ব বজায় রাখা বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় নি।
মেঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ বিন বেলায়েত বলেন সংক্রমন রোধে আমরা সেচ্ছাসেবীরা রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি। বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু, করোনা কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানতে নিয়মিত কাজ করছি। কিন্তু দেখা যায় বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মানুষ এখনো স্বাস্থ্য বিধির মানার ব্যাপারে উদাসিন। তিনি বলেন আমরা দেখেছি গ্রামের অনেক মানুষ করোনা উপসর্গ থাকার পরও নমুনা পরীক্ষা দিতে অনীহা বোধ করছে।
রামগতি উপজেলার আছিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) সারোয়ার মিরন বলেন, করোনা সংক্রমণ কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এতে করে শিশু ছেলেরা বিভিন্ন শ্রমের কাজে নিয়োজিত হচ্ছে এবং মেয়েরা বাল্য বিবাহের স্বীকার হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নজর দেওয়া প্রয়োজন না হলে ভবিষ্যতে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলেন তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের স ালক ও দৈনিক আমাদের লক্ষ্মীপুর পত্রিকার প্রতিবেদক মো: আজম বলেন, সম্প্রতি আমি নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়েছি। সঠিক সময় চিকিৎসা গ্রহন করলে করোনা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সাথে সাথে নমুনা পরীক্ষা করানো উচিত।
তিনি বলেন, চলমান করোনা সময় বিভিন্ন পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকেরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু সেই ভাবে জাতির কাছে তারা মূল্যায়ন পায়না। সকলের সম্মিলিত সহযোগীতায় করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.