নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাচারিতায় গত ১৫ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় আছে ৩০টি পরিবার। নালার পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে মন্দিরের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করায় এ দূর্ভোগে পড়েছে তারা। জলাবদ্ধতার কারণে ওইসব পরিবারের উঠানে পানি জমেছে হাটু পরিমাণ। তাদের এখন ময়লা পানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া গত দুই দিনের বৃষ্টিতে পৌরসভায় বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছ জলাবদ্ধতা।

স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার শাখাড়ীপাড়া এলাকায় শ্রী শ্রী রক্ষাকারী মন্দিরের পাশ দিয়ে বড় বাড়ীর পানি প্রবাহিত হয়। সম্প্রতি মন্দিরের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। একই সাথে মন্দিরের চারপাশে সীমানা প্রাচীর করায় নালার পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ দিন থেকে বৃষ্টির পানি জমে এই বাড়িতে এখন হাটু পরিমাণ পানি রয়েছে। যেকোন সময় বসতঘরের ভিতর পানি উঠে যাবে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ টি পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের ময়লা পানি মাড়িয়েই স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়।
এছাড়া পৌর শহরের শেখ রাসেল সড়ক, শিল্পী কলোনী এলাকা, হাসপাতাল সড়কসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এজন্য অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণকে দায়ী করছে স্থানীয়রা। ফলে নালার পানি ও বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হতে না পেরে সড়কের একটি অংশ ডুবে ও বসতবাড়ির উঠানে পানি উঠেছে।

বড় বাড়ীর বাসিন্দারা জানান, ১১৫ বছরের পুরোনো মন্দির এটি। ওই সময় তাদের পূর্ব পুরুষরা মন্দিরের জমিটি দান করেছে। মন্দিরের কাজ শুরু হওয়ার সময় কথাছিল ড্রেন হবে। পাশে পুকুর ছিল, তাও ভরাট করে ফেলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এখন তারাও ড্রেন করছে না, আমাদেরকেও ড্রেন করতে দিচ্ছে না। গত ১৫ দিন থেকে তারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুই দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মেঝেতে পানি উঠে গেছে। এতে ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আতংকে দিন কাটছে তাদের। এছাড়া পানিবাহিত রোগও দেখা দিয়েছে অনেকের। তাদের অভিযোগ, মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতায় এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২৩টি পরিবার।
এসএসসি পরিক্ষার্থী প্রিয়া সাহাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, সামনে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এই অবস্থায় ড্রেস পড়ে স্কুল যাওয়া খুবই মুশকিল। দ্রুত এর সমাধান চায় তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শ্রী শ্রী রক্ষাকারী মন্দিরের সভাপতি রবি দাস নন্দী বলেন, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে পানি নিষ্কাশনের জায়গা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া তারা বিকল্প জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে পারে, তা না করে খামাখা মন্দির কমিটিকে দোষারোপ করছেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর উত্তম দত্ত বলেন, তাদের দুই পক্ষকে বলা হয়েছে, কেউ কথা শুনেনা। বিষয়টি মেয়র সাহেবকে জানানো হয়েছে। অচিরেই একটা সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *