নিজস্ব প্রতিনিধি: অতিরিক্ত মাত্রায় জলাবদ্ধতা আর পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এবার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ ব্যহত হয়েছে। রোপা আমন ধানের আবাদের জন্য সাধারনত জৈষ্ঠ-আষাঢ়ের মাঝামাজি সময়ে বীজ তলায় বীজ বোনা হয় এবং শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে চারা রোপন করা হয়ে থাকে,পূনরায় কার্তিক,অগ্রাহায়ন বা পৌষ মাস নাগাদ এলাকা ভেদে ধান কাটা শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের কাছ থেকে খোজ নিয়ে জানাযায় বিগত ৮/৯ বছর থেকে রায়পুর উপজেলায় জলাবদ্ধতার কারণে রোপা আমনের আবাদ পূর্বের ত’লনায় অনেকাংশে কমে গিয়েছে, আর এর অন্যতম কারণ জমিতে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সঠিক সময়ে মূল জমিতে বীজ বোপন করতে না পারা। গত দুই তিন বছর ধরে এই সমস্যা আরও ব্যপক আকার ধারন করলেও এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় খুজে বের করেতে ব্যার্থ হয়েছেন একানকার স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ডোবা-নালা এবং খাল গুলোর মধ্যে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ,অবৈধ ভাবে খাল দখল করে খালের তলা থেকে গ্রেট ভিমের সাহায্যে ওয়াল উঠিয়ে খাল সরু করা,খালের উপর আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে পানি প্রবাহের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা না রাখার দরুন অতিরিক্ত বৃষ্টিতে প্রতিবছর ফসলি জমি গুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল আবাদে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে কৃষকদেরকে।
গত বছরও জমিতে বৃষ্টির পানি জমে ৩ / ৪ ফুট উচ্চতায় পানি উঠে বন্যা আকার ধারন করায় জমিতে আমনের আবাদ ব্যহত হয়েছে, এবারও তার বিপরীত কিছু হয়নি । উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জনান, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমানের আবাদ হয়ে থাকে,কিন্তু এরমধ্যে ৭নং বামনী ইউনিয়নে ৫শ হেক্টর,৬নং কেরোয়া ইউনিয়নে ৬৫০ হেক্টর, ৫নং চরপাতা,৪নং সোনাপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার ১০টি ইউনয়িনে প্রতিবছর ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়ে থাকে, কিন্ত এবছর জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আনুমানিক মাত্র ৩ হাজার হেক্টর জমিতে এ ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.